মাসে ৩০০০ টাকা! ১২ পাতার Annapurna Bhandar Form Fillup 2026| ধাপে ধাপে সঠিক গাইড (ভুল করবেন না)

আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মা বোনেদের আর্থিক সহায়তার জন্য ২০২৬ সালে Annapurna Bhandar প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ বা হইচই লেগে পড়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে এই ১২ পাতার ফর্ম দেখে সাধারণ মানুষ অনেকেই ঘাবড়ে যাচ্ছেন।

এই ফর্ম ফিলাপ করতে করতে যদি কোথাও ভুল হয়ে যায় তাহলে আপনার পুরো ফর্ম বাতিল হয়ে যাবে। মনে রাখবেন এই ফর্ম ফিলাপ করার জন্য তাড়াহুড়া না করে, ধীর মস্তিষ্কে ঠান্ডা মাথায় আমাদের এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন সবকিছু ধাপে ধাপে বোঝানো হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ অংশ

  • 1.অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প ২০২৬ কি?
  • 2.আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলী
  • 3.আবেদন করতে কী কী ডকুমেন্ট লাগবে?
  • 4.১২ পাতার ফর্মটি কোথা থেকে পাবেন?
  • 5.ধাপে ধাপে ১২ পাতার ফর্ম ফিলাপ গাইড
  • 6.ফর্ম ফিলাপের সময় সাধারণ ৫টি ভুল
  • 7.ফর্মটি কোথায় এবং কীভাবে জমা দেবেন?
  • 8.উপসংহার
  • 9.প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

1.Annapurna Bhandar প্রকল্প ২০২৬ কি?

১. অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য এবং কারা যোগ্য:এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামের এবং শহরের মহিলাদের আর্থিক দিক থেকে নিরাপত্তা দেওয়া। দৈনন্দিন এর খরচা চালানোর জন্য এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে সাহায্য করা।অবশ্যই আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং মহিলা হতে হবে। মনে রাখবেন আবেদনকারীর বয়স যেন ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হয়।যারা আগে লক্ষ্মী ভান্ডার পেতেন তারাও কিন্তু এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন তাদের নাম নিয়ম অনুসারে ট্রান্সফার করা হবে কিন্তু মনে রাখবেন এই নতুন সরকারের নিয়ম অনুসারে অন্নপূর্ণা ভান্ডার ১৩ পাতার ফরম ফিলাপ অবশ্যই করতে হবে। নতুন মহিলারাও কিন্তু এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন।তারাও এই ভাতার যোগ্য।

২.অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা বা ভাতা প্রকল্পের সাথে মূল পার্থক্য: এটা কিন্তু সত্যি কথা অন্যান্য সামাজিক ভাতা বা লক্ষ্মীর ভান্ডারের তুলনায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে অনেক বেশি টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যা মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।এই টাকা কিন্তু DBT লিংকের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংকের সাথে আধার লিঙ্ক করা একাউন্টেই টাকা আসবে।

3.গ্রামীণ ও শহরের মহিলাদের স্বনির্ভর করার নতুন উদ্যোগ: এই মাসিক টাকায় গ্রামের ও শহরের মহিলাদের অন্যদের উপর নির্ভর করা থেকে কমায় এবং নিজের ছোটখাটো খরচার অভাব কমাতে বা ব্যবসায়িক কোন কিছুতে সাহায্য করে।মহিলাদের নিজের হাতে এই মাসিক টাকা আসার ফলে তাদের পরিবারের এবং সামাজিক ক্ষেত্রে কোন কিছু কাজ করার আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

2.আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলী

বয়সসীমা: আবেদকের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং

বসবাস: পশ্চিমবঙ্গের মহিলা স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

পারিবারিক ও আর্থিক স্থিতি: এই প্রকল্পের জন্য সরকারি চাকরি থাকা চলবে না সরকারি চাকরি থাকলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।

কাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে?

SC/ST/OBC এবং সাধারণ ক্যাটাগরি।

3.আবেদন করতে কী কী ডকুমেন্ট লাগবে?

আপনি যখনই ফরম ফিলাপ শুরু করবেন তার আগে এই ডকুমেন্ট বা কাগজগুলো রেডি করে রাখবেন।

  • আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড।
  • রেশন কার্ডও লাগবে যদি কোন ক্যাটাগরি থাকে।
  • কাস্ট সার্টিফিকেট যদি থাকে।
  • ব্যাংক একাউন্ট ডিটেলস DBT লিংক অবশ্যই লাগবে প্রতিমাসের টাকা ওই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে।
  • পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি।
  • মোবাইল নম্বর যা আপনার আধার এবং ব্যাংক একাউন্টের সাথে লিংক করা আছে।

4.১২ পাতার ফর্মটি কোথা থেকে পাবেন?

আপনি এই ১২ পাতার ফর্মটি অফিসিয়াল সাইট থেকে সরাসরি ডাউনলোড করতে পারবেন।

আপনার স্থানীয় বিডিও অফিস, স্থানীয় পঞ্চায়েত, পৌরসভা বা দুয়ারী সরকার থেকে বিনামূল্য এই ফর্ম পেয়ে যাবেন।

মনে রাখবেন এই ফর্মটি কোন থার্ড পার্টি অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করবেন না, না হলে আপনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

🚨 সতর্কতা: এই প্রকল্প নিয়ে বাজারে প্রচুর ভুয়ো ফর্ম ঘুরছে। সত্যি আবেদন চলছে নাকি প্রতারণা হচ্ছে, তা জানতে আমাদের এই [বিস্তারিত রিপোর্টটি এখানে ক্লিক করে পড়ুন।]

5.ধাপে ধাপে ১২ পাতার ফর্ম ফিলাপ গাইড

বিভাগ/ক্ষেত্রবিকল্প/ইনপুট নির্দেশনা
ক: পারিবারিক পরিচয়  সঠিক হলে টিক চিহ্ন ✓দিন
১. পরিবারের প্রধানের নাম:পুরো নাম লিখুনএখানে পরিবারের প্রধানের নাম বলতে আপনাদের পরিবারে যে হেড আছে। ধরুন আপনার বাবা কিংবা আপনার মা বা স্বামী তারই এখানে পুরো নাম লিখতে হবে, যেমনটি আধার কার্ডে লেখা আছে।
২. জন্ম তারিখ:(দিন- মাস- বছর)আপনার পরিবারে যে প্রধান আছে তার জন্ম তারিখ দিতে হবে
যেমন ধরুন – 25-12-2020(দিন-মাস-বছর)
৩. পরিবারের প্রধানের লিঙ্গ:◻️ পুরুষ ◻️ মহিলা ◻️ অন্যান্যআপনার পরিবারে প্রধান পুরুষ নাকি মহিলা যদি পুরুষ হয় তাহলে পুরুষের বক্সে টিক চিহ্ন দিবেন আর যদি মহিলা হয় মহিলার বক্সে টিক চিহ্ন দেবেন আর শেষে আরেকটি বক্স রয়েছে যেখানে লেখা আছে অন্যান্য, অন্যান্যটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয় না।
৪. পরিবারের প্রধানের আঁধার নং০০০০ ০০০০ ০০০০যিনি পরিবারে প্রধান। তার আঁধার নম্বর দিন।
৫. ডিজিটাল রেশন কার্ডের পারিবারিক আইডি (যদি থাকে)। আপনার পরিবারের মেইন আইডি বা ফ্যামিলি আইডি যদি থাকে দিতে পারেন।
৬. পরিবারের সদস্য সংখ্যা আপনার পরিবারে বা সংসারে কতজন আছেন সেটা লিখতে হবে।
৭. ঠিকানাগ্রাম-
পোস্ট অফিস –
থানা-
ব্লক-
গ্রাম-পঞ্চায়েত-
জেলা –
এখানে আপনাদের পুরো স্থায়ী ঠিকানা লিখতে হবে।
৮. যোগাযোগ নং০০০০০০০০০০এখানে সেই মোবাইল নম্বরটা দিবেন যেটা আধারের সাথে যুক্ত আছে।
৯. নাম, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, আধার নম্বর (পরিবারের সকল সদস্যের)যে পরিবারের প্রধান তার নাম লিখতে হবে(HOF):

সদস্য ১:
নাম:
জন্ম তারিখ:
লিঙ্গ:
পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক:
আধার নম্বর:

সদস্য ২:
নাম:
জন্মতারিখ:
লিঙ্গ:
পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক:
আধার নম্বর:

সদস্য ৩:
নাম:
জন্ম তারিখ:
লিঙ্গ:
পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক:
আধার নম্বর:

সদস্য ৪:
নাম:
জন্ম তারিখ:
লিঙ্গ:
পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক:
আধার নম্বর:

সদস্য ৫:
নাম:
জন্ম তারিখ:
লিঙ্গ:
পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক:
আধার নম্বর:
যার নামে অন্নপূর্ণা যোজনা ফরম ফিলাপ হচ্ছে দেখবেন তার পাশে একটি বক্স দেওয়া আছে আর তার পাশে হ্যাঁ লেখা আছে, সেই বক্সটাতে শুধু টিক চিহ্ন দেবেন আর অন্যগুলোতে দিবেন না।
ছেলে কিংবা মেয়ের বয়স পাঁচ বছরের কম হলে আঁধারের জায়গায় NA চিহ্নিত করুন।
১০. পরিবারের প্রধান এবং পরিবারের সকল প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাংক একাউন্ট (নগদ অর্থ স্থানান্তরের জন্য)।HOF: এখানে যে পরিবারের প্রধান আছে তার ব্যাংকের ডিটেলস লাগবে।
ব্যাংক:
একাউন্ট নাম্বার:
IFSC:

সদস্য ১
ব্যাংক :
অ্যাকাউন্ট নম্বর :
IFSC:

সদস্য ২
ব্যাংক :
একাউন্ট নাম্বার :
IFSC:

সদস্য ৩
ব্যাংক :
অ্যাকাউন্ট নাম্বার :
IFSC:

সদস্য ৪
ব্যাংক :
অ্যাকাউন্ট নাম্বার :
IFSC:

সদস্য ৫
ব্যাংক :
অ্যাকাউন্ট নাম্বার :
IFSC:
যে একাউন্টে আধারের সাথে DBT লিংক করা আছে। সেই অ্যাকাউন্টটি দিতে লাগবে।
১১. এপিক (HOF এবং সকল প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য) ভোটার তালিকার অংশ নম্বর সহ। এখানে পরিবারের প্রধানের এবং প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য যতজন আছে তাদের এপিক নম্বর বিধানসভা ক্ষেত্র ও অংশ নম্বর দিতে লাগবে।
১২. বিভাগ এখানে যার যেটা ক্যাটাগরি, সেই বক্সে টিক✓দিবেন।
খ. রেশন কার্ড /খাদ্য ভর্তুকি সঠিক হলে টিক চিহ্ন ✓ দিন
১. আপনার কি ডিজিটাল রেশন কার্ড আছে? ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে হ্যাঁ ঘরে টিক দিবেন আর না থাকলে না ঘরে টিক দিবেন।
২. যদি হ্যাঁ হয় তাহলে কার্ড এর ধরন উল্লেখ করুন: যদি ডিজিটাল কার্ড থাকে তাহলে তার ক্যাটাগরি বক্সের মধ্যে টিক দিতে হবে।
৩. পরিবারটি রেশন দোকান থেকে মাসিক রেশন তুলছে কিনা? যদি মাসিক রেশন তুলছেন তাহলে হ্যাঁ বক্সের টিক দিন আর যদি না তুলেন তাহলে না বক্সে টিক দিন।
গ. সম্পদ সঠিক হলে টিক চিহ্ন ✓ দিন
১. বাড়ির ধরন: আপনার বাড়িতে কি ৩ বা তার বেশি পাকা ঘর রয়েছে। তিন বা তিনটির বেশি থাকলে। হ্যাঁ বক্সে টিক দিবেন।
২. পারিবারিক জমির মালিকানা জমির রেকর্ড কপি। রেজিস্ট্রেশন নথি মিউটেশন কপি এবং ROR হালনাগাদের তারিখ সহ থাকলে হ্যাঁ বক্সে টিক দিন আর না থাকলে না বক্সে টিক দিবেন।
৩. পরিবারের সকল সদস্যের মোট জমির পরিমাণ (শতকে)। এখানে মোট জমির পরিমাণ শতকে লিখতে হবে।
৪. যানবাহন: আপনি /পরিবারের কোনো সদস্য কি অ- বাণিজ্যিক মোটর চালিত চার চাকার গাড়ি আছে কি? যদি থাকে হ্যাঁ লিখুন। কয়টা আছে সেটাও সংখ্যাতে লিখতে হবে আর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দিতে হবে।
৫. পরিবারভিত্তিক সদস্যদের স্বাস্থ্য বীমা যদি থাকে হ্যাঁ লিখবেন আর সদস্যদের মধ্যে কার কার আছে সেটাও লিখতে হবে সরকারি নাকি বেসরকারি সেটাও বক্সের মধ্যে টিক দিতে হবে।
ঘ. আয়/পেশা   
১. কোন সদস্য কি আয়কর বা পেশাগত কর প্রদান করেন? (PAN/P TAX) আপনার যদি প্যান কার্ড থাকে তাহলে হ্যাঁ বক্সের মধ্যে টিক দিবেন।
২. পরিবারের সদস্যদের প্যান কার্ড (PAN CARD) যদি থাকে আপনাদের পরিবারের মধ্যে কারো যদি প্যান কার্ড থাকে তাহলে বক্সের মধ্যে হ্যাঁ টিক দিবেন আর যদি না থাকে তাহলে না তে টিক দিবেন। হ্যাঁ হলে ওই সদস্যের নাম প্যান কার্ড নম্বর লিখতে হবে।
৩. কর্মসংস্থানের ধরন আপনাদের পরিবারের কেউ সরকারি, বেসরকারি ক্ষেত্রে বেতনভুক্ত কর্মচারী, সংঘটিত ক্ষেত্রে স্ব নিযুক্ত ব্যবসায়ী মালিক ইত্যাদি আংশিক সময়ে কর্মরত অসংগঠিত ক্ষেত্র নিযুক্ত কারিগর শিল্পী কিশোর ইত্যাদি পরিযায়ী শ্রমিক বেকার অন্যান্য যে কোন কাজে যদি কেউ নিযুক্ত থাকেন তাহলে সেই বক্সের মধ্যে টিক চিহ্ন দিতে হবে।
৪. পরিবারের শিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের সংখ্যা এবং পরিবারের অশিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের সংখ্যা। আপনাদের পরিবারে শিক্ষিত কজন আর অশিক্ষিত কয়জন সেটা সংখ্যায় লিখতে হবে। আপনাদের পরিবারের প্রধান শিক্ষিত নাকি অশিক্ষিত, আপনারা সবাই শিক্ষিত নাকি অশিক্ষিত। সব সদস্যদের এক এক করে লিখতে হবে। আর কত দূর পড়াশোনা করেছেন সেটাও লিখতে হবে।
৫. কোনো সদস্য কি কোনো সংবিধানিক পদ, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, পৌরস্থানীয় সংস্থা এবং পঞ্চায়েত সংস্থার প্রাক্তন/ বর্তমান ধারক? যিনি এই পদগুলোর মধ্যে কোনো একটাতে থেকে থাকে তাহলে তাকে তার সদস্য নং লিখতে হবে। এবং সহায়ক নথি থাকলে জমা দিতে হবে স্ব- ঘোষণা
৬. কোন সদস্য কি সরকারি পেনশনভোগী? যদি হ্যাঁ হয়। তাহলে পেনশন স্লিপ সংযুক্ত করতে হবে।
৭. কোন সদস্য কি জিএসটির (GST) অধীনে নিবন্ধিত আছেন? যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে GSTIN
৮. পরিবারের মোট বার্ষিক আয় ( টাকায়) এখানে সংখ্যায় লিখতে হবে।
ঙ. অন্যান্য পরিচয় নথি  
১. CAA আবেদনের বর্তমান অবস্থা, যদি থাকে আপনাদের পরিবারেরকারণ যদি করা থাকে তাহলে তার অবস্থা কিরকম সেটা দিতে পারেন।
২. অন্যান্য কিষান ক্রেডিট কার্ড(KCC),
কিসান ক্রেডিট কার্ড এআরডি (KCC ARD)
শিল্পী ক্রেডিট কার্ড (Artisan Credit card)
মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড (MJCC)
শিক্ষার্থী ক্রেডিট কার্ড (Student CC, etc) ইত্যাদি।
 এগুলোর মধ্যে যাদের আছে তাদের নম্বর, আইডি সংখ্যা, যে তারিখে ইস্যু করা হয়েছে সেগুলো লিখতে হবে।
৩. যদি( SIR ) 2026- এ নাম বাদ পড়ে থাকে, তবে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন কিনা যাদের নাম বাদ পড়ে গেছে তাদের কিন্তু মামলার বিবরণ লাগবে।
চ. সামাজিক মর্যাদা এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিগণ  
১. বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পরিবারের সকল শিশুর বিবরণ: আপনার পরিবারের যদি কোন শিশু থেকে থাকে তাহলে তার নাম, কোন শ্রেণীতে পড়ে, বিদ্যালয়ের নাম, আর ধরন সরকারি না বেসরকারি নাকি মাদ্রাসা স্কুলে পড়ে এসব কিন্তু বক্সে টিক দিতে হবে। যেকোনো একটাতে।
২. শিশুদের টিকাকরণের বর্তমান অবস্থা যদি হাঁ হয়। তাহলে টিকা করন কার্ড আইডি (যদি না হয়, তাহলে শেষ টিকা নেওয়ার তারিখ /টিকা না নেওয়ার কারণ লিখে দিতে হবে।
ছ. সরকারি প্রকল্পের আওতায় সুবিধা   
১. আপনি কি কোন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ডিবিটি( DBT)এর মাধ্যমে পাচ্ছেন? যদি হ্যাঁ হয় তবে প্রকল্পের নাম উল্লেখ করুন কোন প্রকল্পের DBT মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছেন।
আপনি কি এই প্রকল্প থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে চান তাহলে প্রকল্পের নাম লিখে বক্সের মধ্যে হ্যাঁ তে টিক দিন।
২. বাদ দেওয়া হলে (অফিসার কর্তৃক পুরনীয়) যদি ওই প্রকল্প থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে চাইছেন তাহলে তার কারণ লিখতে হবে সেটাও অফিসারের কর্তৃক পূরনীয় হতে হবে।
জ. ঘোষণা ও সম্মতি  
আমি এই মর্মে ঘোষণা করছি যে, উপরে প্রদত্ত তথ্য আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস অনুযায়ী সত্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আমি সকল সহায়ক নথি প্রদান করেছি এবং উপরে উল্লিখিত কোন মানদন্ড বাদ দেইনি। আমি অবগত যে, আমার প্রদত্ত কোন তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে আমার সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত সুবিধা সমূহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।(স্বাক্ষর)যার নামে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফরম ফিলাপ হচ্ছে এখানে তার ওই স্বাক্ষর লাগবে।

👉আর নিচে যেগুলো ফিলাপ করতে বাকি রয়ে গেল সেগুলো শুধু সরকারি ব্যবহারের জন্য। সেগুলো আপনাদেরকে ফিলাপ করতে হবে না।

6.ফর্ম ফিলাপের সময় সাধারণ ৫টি ভুল

  • এই ফরমটি ফিলাপ করার সময় বাড়তি কিছু লেখা যাবে না আর কাটাকাটি করা যাবে না।
  • আপনার ব্যাংক একাউন্টের নামের সাথে আধার কার্ডের নামের পুরোপুরি মিল থাকতে হবে।
  • যে মোবাইল নম্বরটি আধার কার্ডের সাথে ব্যাংক একাউন্টের সাথে লিংক আছে সেই মোবাইল নম্বরটিই দিতে হবে।
  • আপনার ডকুমেন্টসে সই দিতে ভুলবেন না।
  • আপনার ১২ পাতার ফর্মটি ফিলাপ করার পর নাম্বার অনুসারে সাজিয়ে পিন করতে ভুলবেন না।

7.ফর্মটি কোথায় এবং কীভাবে জমা দেবেন?

  • আপনার দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে জমা দেন।
  • আপনার নিকটস্থ ভিডিও অফিস, স্থানীয় পঞ্চায়েত অফিস,মিউনিসিপ্যালিটি অফিসে জমা দিন।
  • ফরমটি জমা দেওয়ার পর তার Acknowledgement Slip বা রসিদটি ভালো করে যত্ন করে রেখে দেবেন।

8.উপসংহার

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এ নতুন প্রকল্পে Annapurna Bhandar এর টাকা তো অবশ্যই ৩০০০ টাকা করে সব মহিলারাই পাবেন যারা যোগ্য মহিলা কিন্তু আসল কথা হচ্ছে এই ১২ পাতা ফরম ফিলাপ করাটাই হচ্ছে মুশকিল ব্যাপার। কোথাও একটুকু ভুল হয়ে গেলেই আর আপনার টাকা পাওয়া হবে না কিন্তু ভয় নেই আমরা সব ধাপে ধাপে আপনাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছি। ভালো করে দেখে একবার পড়ে যদি বুঝতে না পারেন আবার পড়ুন তারপর ফর্মটি ঠান্ডা মাথায় ফিলাপ করবেন কোন তাড়াহুড়া করবেন না দেখবেন আপনার ফরমটি পুরো সঠিক ভাবে পূরণ করতে পেরেছেন।

আমাদের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে। তাহলে শেয়ার করে দিবেন।

9.প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১: ফর্ম ফিলাপের জন্য কোনো টাকা দিতে হয় কি?

উত্তর: না, কোন টাকা দিতে হবে না আমাদের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দরকার হলে ক্যাম্প করে আপনাদেরকে সাহায্য করা হবে।

প্রশ্ন ২: অবিবাহিত বা বিধবা মহিলারা কি আবেদন করতে পারবেন?

উত্তর:। হ্যাঁ, অবশ্যই পারবেন আপনি যদি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ও পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হলে আপনি অবশ্যই এর যোগ্য।

প্রশ্ন ৩: আবেদন করার কতদিন পর থেকে টাকা পাওয়া শুরু হবে?

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ফর্ম ভেরিফিকেশন সফল হওয়ার পর সাধারণত পরবর্তী লট থেকেই টাকা রিলিজ হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top